অন্যান্য লিংক সমূহ

ইন্টারভিউ প্রস্তুতির চেকলিস্ট

প্রতিটি ইন্টারভিউর আগে আপনি পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছেন কি না তা পরখ করার জন্য নিচের চেকলিস্ট অনুসরণ করুন। যেমন-    

একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করার জন্য নিজের সম্পর্কে কমপক্ষে পাঁচটি গুণ আমার আছে।          
হ্যা     না

চাকরিটি প্রাপ্তিতে নিজেকে যোগ্য করে তোলার জন্য আমি আমার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলো উপস্থাপন করতে পারব।          
হ্যা     না

আমার যথেষ্ট প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা আছে যা চাকরিটির জন্য আমাকে যোগ্য করে তোলে।          
হ্যা     না

আমার এমন কিছু শখ ও কর্মকান্ডের অভিজ্ঞতা আছে যা চাকরিটির জন্য আমাকে যোগ্য করতে সহায়তা করতে পারে।          
হ্যা     না

যদি আমাকে আমার "পার্সোনাল রেফারেন্স" সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয় তাহলে আমি এমন তিনজনের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর উল্লেখ করতে পারবো যারা আমার রেফারেন্স হতে সম্মত আছে।          
হ্যা     না

ইন্টারভিউতে উপস্থিত হওয়ার জন্য মার্জিত ও পরিচ্ছন্ন পোষাক পরেছি।    
হ্যা     না

আমি ইন্টারভিউতে জিজ্ঞেস করার জন্য আমি কিছু প্রশ্ন তৈরী করেছি।          
হ্যা     না

ইন্টারভিউতে যথাসময়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আমি যথোপযুক্ত পরিবহন রুট ও পরিবহন নির্দিষ্ট করেছি।          
হ্যা     না

চেকলিস্ট আরো কোন অপশন যুক্ত করার থাকলে যুক্ত করতে পারেন। এরকম চেকলিস্টের কয়েকটি কপি তৈরী করে রাখুন যাতে সকল ইন্টারভিউর আগে তা ব্যবহার করা যায়।    

ইন্টারভিউ রোর্ডে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারলেই আপনি ভাবতে পারেন যে আপনার ক্যারিয়ার উন্নতির দিকে যাবে। সুতরাং ইন্টারভিউর জন্য সার্বক্ষণিক মানসিক ও প্রায়োগিক প্রস্তুতি রাখুন।    

পেশা ব্যাপারটিকে পেশাদারিত্বের সাথেই নিতে হবে। আপনি যে কাজে দক্ষ সেই সংশ্লিষ্ট পেশা নেওয়ার উপরেই নির্ভর করছে আপনার এবং প্রতিষ্ঠানের বিকাশ। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোন পদে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ প্রার্থীকেই নিয়োগ দিয়ে থাকে।    

অতএব চাকরি পাওয়ার ন্যূনতম শর্ত হলো এমন কোন পেশাদারী যোগ্যতা থাকা বাজারে যার কদর আছে। নিয়োগদাতা দেখতে চান আপনি আপনার কাজ বা দায়িত্বের প্রতি কতটা দক্ষ ও নিষ্ঠাবান হতে পারবেন। আপনার কাজের প্রতি সৃজনশীল মনোভাবও আপনার পেশঅদারীত্বের অংশ। সুতরাং নিয়োগদাতার কাছে নিজেকে যেমন পেশাদারী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা যায় এমনভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।

আজকাল বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানই তার কাজ ভাগ করে দিতে চায় একজন বিশেষজ্ঞকে। তাই নিয়োগের বেলায় পেশাদারী যোগ্যতাকেই বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়। আগে ইংরেজীতে ভাল বলতে ও লিখতে পারলে জনসংযোগ অফিসার বা তথ্য অফিসারের চাকরি হয়ে যেত। কিন্তু এখন প্রতিষ্ঠান চায় পাবলিক রিলেশনের উপর ডিগ্রীধারী বা ডিপ্লোমা করা লোক। সুতরাং পেশাদারী মনোভাব ছাত্র থাকাকালিন সময়ে নেওয়া উচিৎ। লক্ষ্য রাখতে হবে নিজেকে কোন বিষয়ে কতটা দক্ষতা, বিশেষজ্ঞ ও আপগ্রেড করা যায়। নিজের লেখাপড়া ও অন্যান্য কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান, সময়ানুবর্তী ও নিয়মানুবর্তী হওয়ার চর্চা করতে হবে। নিজেকে যতটা সম্ভব অফিসিয়াল বা ফর্মাল করে গড়ে তুলতে হবে। আগে সর্বস্ব হওয়াটা কোন ক্ষেত্রেই আপনার জন্য ভাল হবে না। উদাসীনতা তো নয়ই।

ইন্টারভিউতেও নিজের পেশাদারীর মনোভাব ফুটিয়ে তুলতে হবে। ইন্টারভিউর আগে আবেদনপত্র ও বায়োডাটা তৈরী এবং প্রণয়নের ক্ষেত্রে ফর্মাল প্রসেসস মেনে চলতে হবে। ইন্টারভিউর ডাক পাওয়া মাত্রই ধন্যবাদপত্র পাঠিয়ে দিতে হবে, ইন্টারভিউর পরেও। ইন্টারভিউতে নিজেকে মার্জিত ও ফর্মালভাবে উপস্থাপন করতে হবে। কোন প্রকার আবেগ বা উচ্ছাস প্রকাশ করা পেশাদারীত্বের লক্ষণ নয়। নিয়োগদাতার মনে নিজের একটা ভাল ইমপ্রেশন তৈরী করতে পারলেই আপনার নিয়োগ পাবার সম্ভাবনা বাড়বে। সুতরাং পেশাদারী হন।

দেশে চাকরি নেই এই ধারণা মনের মধ্যে পুষে রাখলে হতাশাই বাড়বে। দেশে চাকরির সুযোগ তৈরী হচ্ছে, তবে যুগটা প্রফেশনালিজমের একই সাথে প্রতিযোগিতারও। এখন নিজেকেই যত বেশি দক্ষ করে তোলা যাবে, নিজের সুযোগ সম্ভাবনা তত বাড়বে। সুতরাং মনমতো পেশায় প্রবেশ করতে হলে মুখোমুখি হতে হবে বড় একটা চ্যালেঞ্জের। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেকে তৈরী করতে হলে আগে থেকেই একজনকে স্থির করতে হবে তার লক্ষ্য কি এবং কিভাবে তাতে পৌঁছানো যাবে। অর্থাৎ প্রয়োজন মাফিক ও সময়োপযোগী "ক্যারিয়ার প্ল্যান"। তবে নিজেকে কোন গন্ডির মধ্যে রেখে দিলে হবে না। সংশ্লিষ্ট সবগুলো পথ খোলা রেখে লক্ষ্যের দিকে চলতে হবে, তাহলেই নিশ্চিত হবে আপনার ভবিষ্যত।